আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং শিখে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে আপনার অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কি কি প্রয়োজন তা জানা উচিৎ।
বর্তমানে যুবকরা ক্যারিয়ার গড়ার জন্যই নয় বরং কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখে।
ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়তে বাস্তবসম্মত যা যা লাগবে তা আমি আজ আলোচনা করবো।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কি কি প্রয়োজন?

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কি প্রয়োজন
ছবিঃ ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কি কি প্রয়োজন

সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য যা যা প্রয়োজন তার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
একটি ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আপনার লাইফে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

কেউ কেউ পার্ট টাইম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিংকে নিতে চায়!এমনও অনেক ফ্রিল্যান্সার আছে যারা ফুল টাইম দিয়েও কাজ পাচ্ছে না।
আর আপনি কীভাবে পার্ট টাইম হিসেবে নিবেন?

যদি কেউ পড়ালেখা,কাজ অথবা চাকরি বাদ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা কামানোর আশায় সব ছেড়ে দিয়ে মাঠে নেমে যায় তাহলে সে ভুল করবে!

পড়ালেখা, চাকরি যাই করেন না কেন আপনি প্রতিদিন অল্প অল্প করে শিখবেন এবং অনুশীলন করবেন।

ফেসবুক ইউটিউবে ফ্রিল্যান্সিং  করে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করা যায় এমন বিজ্ঞাপন দেখে ঝাপিয়ে পড়াটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই হবে না।

কথাটি তেঁতো হলেও বাস্তবতা এমনই।

কারণ আপনি লক্ষ লক্ষ টাকার কথা শুনে ঝাপিয়ে পড়েছেন।

যারা সফল হয়েছে,তাদের মুখ থেকেই শুনতে পারেন।তারা টাকার লোভে এসব শুরু করেনি।

তারা যেসকল কাজ করছে সে বিষয়ে তাদের ভালোবাসা ছিলো।

আর এই ভালোবাসাই তাদের এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।তাই আপনার সিদ্ধান্ত  নেয়া উচিৎ, যে কাজে আপনার আগ্রহ,ভালোবাসা বেশি, সে কাজ শেখা।

আপনার যদি কোডিং অথবা সমস্যা সমাধান করার প্রতি আগ্রহ থাকে তাহলে (অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট) শিখতে পারেন।

যদি আকাআকি,বিভিন্ন ডিজাইন এর প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে পারেন।


যদি ইংরেজিতে ভালো,মার্কেটিং এবং টার্গেট নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন তাহলে এসইও শিখতে পারেন।

যদি ভিডিও ইডিটিং করতে ভালোবাসেন তবে ভিডিও ইডিটিং শিখবেন।

Text নিয়ে নাড়াচাড়া পছন্দ করলে ডেটা এন্ট্রি শিখতে পারেন।

আসল কথা হলো কোন কাজে আপনার ভালোবাসা আগ্রহ আছে তা জানা।

যেটি আপনি করতে ভালোবাসেন সেটিই করা উচিৎ।কোন কাজে ইনকাম বেশি,শেখা সহজ এগুলো না বিবেচনা করাই উত্তম।

যে কাজ শেখা যায় দ্রুত, সে কাজ করা কঠিন এবং কাজ পাওয়াও কঠিন।

সহজ কাজ সবাই করতে চায় বিধায় এ কাজে প্রতিযোগিতা  বেশি।

যখনই আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তখন আশা করা যায় আপনি সফল হবেন ইনশাআল্লাহ ।

কৌশল

আপনি যদি একটু চালাক হন তাহলে সব সহজ।অনেকেই মনে করে থাকেন যে,কোর্স করা ছাড়া উপায় নেই,এগুলো জানার জন্য কারো দ্বারস্থ হতে হবে।

বর্তমানে গুগল/ইউটিউব থেকে যা মন চায় তাই শিখতে পারবেন।

তাও ফ্রিতে যখন খুশি তখন।

কোনো বিষয়ে জানতে বা কিছু না বুঝলে কমেন্ট করার সুবিধা পাবেন।

আসলে যারা সফল ফ্রিল্যান্সার তারাও ইউটিউব/গুগল থেকে নতুন নতুন দক্ষতা জ্ঞান অর্জন করে থাকে।

আপনাকে শেখা চালিয়ে যেতে হবে।

থেমে গেলে পিছিয়ে যাবেন।


এমনও লোক আছে যারা গুগলে সার্চ করতে পর্যন্ত পারে না কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং  করতে চায়!

আপনি যে, সব কিছু জানবেন এটা কিন্তু নয়।


মাঝে মাঝে কাজ করার সময়, সমস্যায় পড়বেন সেগুলোর সমাধান গুগল/ইউটিউবে রয়েছে যা আমাদের সার্চ করে বের করতে হবে।

এই সার্চ করাকে অনেকেই সাধারণ ভেবে থাকে,বাস্তাবতা হলো অসাধারণ।

অনেকে বলে থাকেন যে,আপনি সার্চ করে সমাধান  করতে পারেন মানে আপনি ৫০% সফল!


ফেসবুকে প্রচুর ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটি গ্রুপ রয়েছে সেগুলোতে জয়েন করতে হবে।

এসব গ্রুপে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে পোষ্ট করা হয় সমাধান পাওয়ার আশায়।

আপনি সেগুলো দেখে দেখে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারেন।


অনেকেই টাকার গরমে একটু সময় না দিয়ে কোর্স করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

প্রতারণার শিকার হয়ে ফেসবুকে আবেগঘন পোষ্ট পাওয়া কিন্তু বিরল নয়!

কোথা থেকে কোর্স করবেন?তাদের সম্বন্ধে  বিস্তারিত জেনে নিবেন।

নামকরা প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স করবেন।

তারা বাংলাদেশের বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষম করে তুলছেন।

বলা যায়,ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনাকে কৌশলী হতে হবে ভালো ফলাফল এর জন্য।



ইংরেজি জানা

ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা।

বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে কথোপকথন করার জন্য ইংরেজি শেখা বাধ্যতামূলক।

যদি ইংরেজিতে দুর্বল থাকেন তাহলে এখন থেকেই ইংরেজিতে গুরুত্ব দিন।

অনেকেই ইংরেজির কথা চিন্তা করে পিছিয়ে যায়।

এমনটা করবেন না কারন এখানে আপনাকে কথোপকথন করতে যতটুকু ইংরেজি লাগে কেবল সেটুকু জানলেই হবে এবং কাজ রিলেটেড ইংরেজি।

কাজ শেখার পর আপনি কাজ রিলেটেড ওয়ার্ড আপনি এমনিই শিখে যাবেন।

সাধারণত গরুর পশম,ফড়িং  এর পা,টেড়স,ধানের খড় এগুলো ইংরেজি ওয়ার্ড জানা লাগবে না।

মানে আপনার কাজ রিলেটেড ওয়ার্ড জানতে হবে।

যদি কখনো কোনো ওয়ার্ড এর অর্থ না বুঝেন তাহলে অবশ্যই গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।

এটা আপনার বিশ্বাস না হতে পারে কিন্তু যারা ইংরেজিতে এক্সপার্ট তারাও মাঝে মাঝে গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহার করে থাকেন।

ইংরেজি আমাদের মাতৃভাষা নয় তাই এটা আমরা কখনোই পুরোপুরি জানতে পারবো না।

তবে সবসময়ই ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করে যেতে হবে।

আপনি যদি ইংরেজিতে দূর্বল হয়ে থাকেন তাহলে ইংরেজি শেখার কোর্স করতে পারেন।

বই পড়তে পারেন।যদি ইংরেজি কথোপকথন এর কিছুই না জেনে থাকেন তাহলে Zero to hero বইটি পড়তে পারেন।

এই বইটা শেষ হয়ে গেলে Rapidex বইটি কিনতে পারেন।

এই দুইটা বই আয়ত্ত করতে পারলে আশা করি অবশ্যই আপনি ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে উঠবেন ইনশাআল্লাহ।


জ্ঞান ও দক্ষতা

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার ক্ষেত্রে আপনাকে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।এখানে মোটামুটি বলার সুযোগ নেই।আপনাকে বলতে হবে আমি এক্সপার্ট।

দেশে অনেক ব্যক্তি রয়েছে যারা কোন কাজের দক্ষতা নেই তাও তারা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস এ একাউন্ট করে দেশের সুনাম নষ্ট করে যাচ্ছে।

কোনো কাজ না জেনে থাকলে আপনাকে ডলার দেখেই যেতেই হবে কিন্তু হাতে পাবেন না।

তবে আপনি চাইলেই বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস রিসার্চ করতে পারেন সেখানে কেমন কাজ রয়েছে তারা কি চায় ইত্যাদি।

তবে কেউ বেহুদা একাউন্ট করবেন না।এতে দেশের ব্যাপক ক্ষতি।

২-৩টা বিষয়ে মাথা না খাটিয়ে ১টা বিষয়ে যদি দক্ষ হতে পারেন তবেই যথেষ্ট।


কম্পিউটার বা ল্যাপটপ

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনার প্রধান অস্ত্র হচ্ছে আপনার ব্রেন আর  ২য়টি হচ্ছে কম্পিউটার।

কারন কম্পিউটার ছাড়া আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন না।

তবে ভালোভাবে কিছু না জেনেই  ঋণ নিয়ে কম্পিউটার কিনতে যাবেন না।

আপনাকে সময় দিতে হবে।আর হুট করেই কম্পিউটার  কিনবেন না।

কম্পিউটার সম্বন্ধে ভালোভাবে জেনে তারপর কম্পিউটার কিনবেন।

আপনি যে কাজ করবেন সে কাজের জন্য যেমন কম্পিউটার লাগবে তেমন কম্পিউটার কিনবেন।

এরকম বলছি কারন ফেসবুকে একটা পোষ্ট দেখেছিলাম যে, 

একজন ফ্রিল্যান্সিং শিখতে চায়  সে কম্পিউটার ক্রয় করেছে।

যার স্পেস ২টিবি।কারণ সে গ্রামের বাজারের কম্পিউটার এক্সপার্টকে নিয়ে মার্কেটে গিয়েছিলো।

সাধারণত যারা বাজারে মেমরি লোড দিয়ে থাকে তাদের প্রচুর স্পেস প্রয়োজন হয়।

সে কিন্তু মেমরি লোড দিবে না।

সে করবে ফ্রিল্যান্সিং

সে যদি ভেবেচিন্তে কম্পিউটার নিতো তাহলে সে কোনো একটা ssd নিতো ভালো স্পিড পাওয়ার জন্য।

তাই অবশ্যই আপনার কম্পিউটার থাকতে হবে এবং না থাকলে কম্পিউটার সম্পর্কে জ্ঞান নিয়ে ভেবেচিন্তে একটা নিয়ে নিবেন।



ইন্টারনেট কানেকশন

ইংরেজি,কাজের দক্ষতা ও কম্পিউটার যতই থাকুক না কেন ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে।

যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং অনলাইন ভিত্তিক কাজ।বর্তমানে ইন্টারনেট মূল্য ভালোই সস্তা।

ওয়াইফাই কানেকশন থাকলে তো ভালো আর না থাকলে সিম নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন।

মাই এয়ারটেল এ স্বল্প মূল্যে মাসিক প্যাকেজ পাওয়া যায়।

যা আপনার সাধ্যের মধ্যেই পাবেন।

এয়ারটেলে নেটওয়ার্ক বেশ ভালো।

মাসিক ৩০-৬০ জিবি নিলেই এনাফ।

বাংলাদেশে প্রচুর ফ্রিল্যান্সার রয়েছে যারা সিম ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন।


ধৈর্য

যেকোনো কিছু করার ক্ষেত্রে কিন্তু ধৈর্য আবশ্যক।
সবই শিখলেন করলেন কিন্তু আপনার ধৈর্য নেই তাহলে হবে না।
দুনিয়ার অধিকাংশ লোকই সফলতা যেখানে ২০ সেখানে ১৯ পর্যন্ত গিয়েই মুখ ফিরিয়ে চলে যায়।
কারন তাদের ধৈর্য নেই।

নতুন অবস্থায় একটি কাজ যোগার করার জন্য প্রচুর চেষ্টা করতে হবে।

বলা যায় প্রায় ধৈর্য হারিয়েই ফেলবেন কিন্তু আবার ঘুরে দাড়াতে হবে।

অনেকের একটা কাজ পেতে ৬-৭ মাসও লেগে যায়।

কিন্তু আপনার প্রোফাইল যখন একটু ভালো রিভিউ সম্পর্ণ হয়ে যাবে তখন আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না।


উপসংহারঃ উপরোক্ত বিষয়গুলি আপনার থাকলে আপনার সফলতা নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ।

তবে শুরুতেই  আল্লাহ এর নাম নিয়ে শুরু করবেন তাহলে অতি দ্রুত সফলতা পেয়ে যাবেন।

সব কিছু দেয়ার মালিকই মহান আল্লাহ।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কোনটির প্রয়োজন

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কোনটি প্রয়োজন



বিঃদ্রঃ এই ব্লগে বিভিন্ন কনটেন্ট,ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন ওয়েবসাইট/বই থেকে নেওয়া হতে পারে।আমরা আপনার মূল্যবান কনটেন্ট,অন্যের উপকারের লক্ষে শেয়ার করে থাকি।তবে আপনার যদি কোনও আপত্তি থাকে,তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ করুন।আপনার কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা হবে।
insurance bd,Online education,insurance,Online education, bkash,nagod,mobile banking bd