না পড়ে পরীক্ষায় পাশ করার উপায়


না পড়ে পরীক্ষায় পাশ করার উপায় কি আসলে আছে কিনা?
 তা নিয়ে আজ আমি আলোচনা করবো। টাইটেল পড়েই হয়তো অবাক হয়েছ!
তোমার মনে হয়তো প্রশ্ন জেগেছে, না পড়ে পরীক্ষায় পাশ করা যায় নাকি আবার?
যেহেতু তুমি না পড়ে পরীক্ষায় পাশ করার উপায় গুগলে সার্চ করে আমার এই ব্লগ-পোষ্ট এ এসেছ ,তাই তুমি ধরে নিতে পারো তোমার মাঝে অলসতা আছে তুমি অলসতা করেও পাশ করতে পারো!
কীভাবে? 

না পড়ে পরীক্ষায় পাশ করার উপায়

 নিয়মিত হও 

 ক্লাসে প্রায় শিক্ষকরা বলে থাকে,তুমি নিয়মিত হও যে ছাত্র প্রতিদিন ক্লাসে উপস্থিত থাকে সে ছাত্র কখনোই পরীক্ষায় ফেল করে না।
শুধু এ কথায় শেষ করে না বরং গ্যারান্টি দিয়ে কথা বলে।
এ উক্তিতে ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থী সন্দেহ পোষণ করে।
মজার বিষয় হলো,আমিও তখন বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু ব্যাপারটি এখন বুঝি।
যদি তুমি ক্লাসে নিয়মিত হও তাহলে প্রতিদিন অন্তত শিক্ষকের ২০টি কথা শুনবে মনোযোগ সহকারে, যা তুমি না শুনতে চাইলেও শুনবে।
বছরে (৩৬৫*২০) ৭৩০০টি কথা শুনবে মনোযোগ সহকারে। তাহলে ভেবে দেখো,তুমি পড়া ছাড়াই ফ্রিতেই ৭৩০০টি কথা শুনবে।
আর শিক্ষকেরা যখন মোটিভেশন কথা বলবে তখন তুমি নিজেই যথাসম্ভব চেষ্টা করবে।
এগুলোর কথা নাই বললাম। তুমি যতই দুষ্টুমি করো না কেন দুষ্ট-মীরও একটা লিমিট আছে।
যখন দুষ্টুমি করতে করতে আর ভালো লাগবে না তখন এমনিতেই বই হাতে নিয়ে একটু চেষ্টা করবে। তাই তুমি পাশ কিংবা ভালো রেজাল্ট করতে চাও না কেন নিয়মিত হওয়ার বিকল্প নেই!

মনোযোগী হও

মনোযোগী হওয়া যতটা কঠিন আমরা ভাবি, ততটা কঠিন নয়।
আমি ছাত্র জীবনে এমনও অনেক শিক্ষক পেয়েছি যারা বলে,তোমার কিছু করা লাগবে না শুধু আমার কথা গুলো মনোযোগ সহকারে শুনবে।
স্যার আমাদের পড়া না পাড়লে কখনোই বকা দিত না বরং যখন আমরা অমনোযোগী হয়ে অন্যদের সাথে গল্প করতাম তখন আমাদের প্রশ্ন করতো প্রশ্নের উত্তর সঠিক না বলতে পারলে আমাদের সামান্য বকা দিত 
এভাবেই এক সময় দেখা গেলো তার ক্লাসের সব শিক্ষার্থীরা খুবই মনোযোগী স্যার বলতো, তোমার যত গল্প/প্রশ্ন আছে তা তুমি আমার কাছে বলো কিন্তু পাশের কাউকে বলা যাবে না!
বছর শেষে দেখা গেলো ,আমি তার সাবজেক্টেই ভালো রেজাল্ট করলাম।
একজন শিক্ষক বছরে একই লেকচার বার বার রিপিট করে।
অন্যদিকে কঠিন বিষয়কে সহজ করে দেয়।
স্যার যদি ক্লাসে গল্প করে তবেও মনোযোগ সহকারে শুনবে। মূলকথা হলো,শিক্ষকের ব্যাপারে সন্দেহ করা যাবে না।এক শিক্ষকের সাথে অন্য শিক্ষকের তুলনা করা যাবে না।
অন্যদিকে অনেকক্ষণ শিক্ষকের দিকে চেয়ে থাকলে গাড় ব্যথা করে যা মনোযোগ নষ্ট করে।
এ সমস্যা প্রায় শিক্ষার্থীর! এর থেকে পরিত্রাণ পেতে তোমাকে একটু ট্রিক খাটাতে হবে।
অনেকক্ষণ চেয়ে না থেকে প্রতি ২ মিনিট পর পর অন্যদিকে চাইতে পারো। আবার একাধারে অনেকক্ষণ বসে থাকলে শরীর কেমন জানি করে।
এক্ষেত্রে তুমি ক্লাস ব্রেক এর সময় একটু হাটাহাটি করতে পারো।

যথাসম্ভব চেষ্টা করো

 ভালো শিক্ষার্থীরা যেখানে দিনে ৩-৪ ঘণ্টা পড়ে সেখানে তুমি নিয়মিত ৩০ মিনিট পড়ো।
আমাদের বড় একটি অজুহাত হলো ,তার ব্রেন খুব ভালো তাই সে ভালো ছাত্র।
সে ৩-৪ ঘণ্টা পড়তে পারলে তুমি কেন পারবে না।তুমি যতক্ষণ পড়তে পারো ততক্ষণই পড়ো।
যতটুকু পারো ততটুকুই করো দুনিয়াতে পরিশ্রম ছাড়া কেউই সফল হয়নি।
সফল হতে চাইলে পরিশ্রম করতেই হবে। তুমি যতটুকু চেষ্টা করবে কেবল ততটুকুই ফল পাবে।
যদি তুমি নিয়মিত হতে পারো তাহলে ৩০ মিনিট কোনও ব্যাপারই না।
তখন এমনিতেই পড়তে ইচ্ছা করবে। 

ধর্মীয় ক্ষেত্রে আরো সক্রিয় হও

তুমি যদি প্রতিদিন নামাজ পড়ো তাহলে নামাজ তোমাকে নিয়মিত করবে,সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন করবে।যেহেতু তুমি মনে করো তোমার ব্রেন খুব দুর্বল তাই তুমি প্রতিদিন আছরের নামাজের পর এই দোয়াটি পড়তে পারো।
আছরের নামাজের পর বলার কারণ হলো আছরের নামাজের পর দোয়া করলে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।
চাইলে বই পড়ার আগেও দোয়াটি করতে পারো। 
প্রতিটি ভালো কাজের আগে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়া উচিৎ ফলে আল্লাহ বরকত বাড়িয়ে দিবেন।

ছোট গল্প

একদা এক সময়ে এক ছাত্র ছিলও।
সব কাজে সে সহজ খুঁজতো।সে প্রচুর অলসও ছিল।
পড়াশোনা তার কাছে খুব কষ্টকর মনে হতো। তাই সে এক ফকির এর সাথে দেখা করলো।
ফকিরকে সব খুলে বলল। ফকির বলল, কোনও সমস্যা নেই!
যেহেতু তুমি আমার কাছে এসেছ তাই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
এই নাও তাবিজ।এতে যা লেখা আছে তা বাসায় গিয়ে পড়বে এবং এটা সবসময় গলায় ঝুলিয়ে রাখবে।
 আর হ্যাঁ!এই তাবিজের হাদিয়া ৫০০ টাকা।তা পরিশোধ করে যাও।
ছেলেটি বাসায় গিয়ে অলস এর বসে খুলেও দেখল না।আর ভাবলো খুলে দেখার কী আছে।
গলায় ঝুলিয়ে রাখলেই তো পাশ করে যাবো।
পরীক্ষা নিয়ে সবার চিন্তা কিন্তু তার কোনও চিন্তা নেই।
সবাই চেষ্টা করে কিন্তু সে করে না। দেখতে দেখতে পরীক্ষাও চলে এলো।
পরীক্ষা ঠিকমত সম্পন্ন করলো। পরীক্ষার রেজাল্ট এলো ফেল! সে প্রচুর রেগে গেল এবং পুলিশ ডাকল। 
পুলিশ এসে যখন ফকিরকে গ্রেফতার করতে যাবে সেই সময় ফকির বলল, স্যার আমি যে তাবিজটি তাকে দিয়েছিলাম সেটি তাকে আনতে বলুন।
ছাত্রটি কথা মতো তাবিজ এনে পুলিশ এর হাতে দিলো এবং পুলিশ তাবিজ খুললো।
তাবিজের কাগজে লেখা ছিল, না পড়িলে,পাশ করিবে না। অবশেষে ছেলেটি নিজের ভুল বুঝতে পারলো।

উপসংহার: পরিশ্রম ছাড়া সফল হওয়া যায় না!আর সফল হলেও তার মূল্য থাকে না।তোমার যতটুকু ক্ষমতা আছে তাই দিয়ে চেষ্টা করো।আশা করি তুমি সফল হবে ইনশাআল্লাহ

ভিডিওঃ



বিঃদ্রঃ এই ব্লগে বিভিন্ন কনটেন্ট,ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন ওয়েবসাইট/বই থেকে নেওয়া হতে পারে।আমরা আপনার মূল্যবান কনটেন্ট,অন্যের উপকারের লক্ষে শেয়ার করে থাকি।তবে আপনার যদি কোনও আপত্তি থাকে,তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ করুন।আপনার কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা হবে।